কিশোরগঞ্জে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়রের উপর নির্যাতনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত

কিশোরগঞ্জে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়রের উপর নির্যাতনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিতকিশোরগঞ্জে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়রের উপর নির্যাতনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিতকিশোরগঞ্জে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়রের উপর নির্যাতনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত


আজ কিশোরগঞ্জে ধর্মীয় অনুভূতির নামে মিথ্যা গুজব তুলে সারাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর নির্যাতন,অগ্নিসংযোগ, ছাত্রছাত্রীদের ছাত্রত্ব বাতিল,হামলা মামলাসহ সনাতন বিদ্যার্থী সংসদ, বাংলাদেশ এর সভাপতি শ্রদ্ধেয় শ্রীকুশল বরণ চক্রবর্তী স্যারের উপর প্রাণনাশের হুমকির প্রতিবাদে গণ অবস্থান ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

আজ সকাল দশ ঘটিকা থেকে দের ঘন্টাব্যাপি কিশোরগঞ্জের কেন্দ্রীয় মন্দির শ্রী শ্রী কালীবাড়ি মন্দিরে সামনে গণ অবস্থান ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সমাবেশে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতৃত্ব সনাতন বিদ্যার্থী সংসদ, কিশোরগঞ্জ জেলা শাখা, পূজা উদযাপন পরিষদ, কিশোরগঞ্জ জেলা শাখা, বাংলাদেশ হিন্দু যুব মহাজোট, কিশোরগঞ্জ জেলা শাখা, আরতি সংঘ এবং সনাতন যুব শক্তিসহ অন্যান্য সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং অন্যান্য সদস্যগন উপস্থিত ছিলেন। এই সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি এডভোকেট ক্ষিতশ দেবনাথ এবং সমাবেশে সঞ্চালনা করেন শ্রী প্রণব কুমার সরকার সাধারণ সম্পাদক, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, কিশোরগঞ্জ। সনাতন বিদ্যার্থী সংসদ কিশোরগঞ্জ শাখার সহ সভাপতি দীপক দাস তার বক্তব্যে বলেন বাংলাদেশের হিন্দুদের উপর হামলার তীব্র প্রতিবাদ এবং নিন্দা জানায়। তিনি বলেন অন্য এক দেশের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কুমিল্লার মুরাদনগর, দিনাজপুরের পার্বতীপুরে হিন্দুদের বসতবাড়ীতে অগ্নিসংযোগ, লুটপাট চালিয়েছে তাদের দ্রুত বিচারের দাবি জানায় সাথে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার গুলোকে সহযোগিতা করার জন্য সরকারকে অনুরোধ করেছেন সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সনাতন বিদ্যার্থী সংসদ, কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সন্মানিত সভাপতি শ্রী যামিনী রায় বলেন কুমিল্লার মুরাদনগর, দিনাজপুরের পার্বতীপুর সহ বিভিন্ন সময় বাংলাদেশ ঘটে যাওয়া সংখ্যালঘুদের উপর হামলার বিচার করতে হবে। ১৯৭২ সালের সংবিধান আবার কার্যকর করে সংখ্যালঘুদের জন্য সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয়, সংখ্যালঘু কমিশন সাথে বিশেষনিরাপত্তা আইন করে ট্রাইবুনাল গঠন এবং হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্টকে হিন্দু কল্যাণ ফাউন্ডেশন হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। সেই সাথে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বহিষ্কার করা হয়েছে তা অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। তিনি আরও বলেন সহযোগী অধ্যাপক শ্রীকুশল বরণ চক্রবর্তী স্যারকে হত্যার হুমকি দাতাকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে দ্রুত বিচার কার্য সম্পাদন করতে হবে। পুজা উদযাপন পরিষদের উপজেলা শাখার সভাপতি বাবু মাখন দেবনাথ বলেন এদেশে কোন সাম্প্রদায়িকতার কোন ঠাই নাই, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সরকার তা কখনোই হতে দেবে না। তিনি মুরাদনগর এবং পার্বতীপুরের ঘটনার তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং দোষদের শাস্তির দাবি জানান। উক্ত সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বাবু পল্লব কর, সনাতন যুব শক্তির আহবায়ক বাবু অর্জুন কর্মকার, আরতি সংঘের সভাপতি শ্রী রাকেশ বিশ্বাস, বাংলাদেশ হিন্দু যুব মহাযোটের আহবায়ক নিলয় পাল আদর। সমাবেশের সমাপনী বক্তব্য রাখেন হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি এডভোকেট ক্ষিতশ দেবনাথ বলেন ধর্মীয় অনুভূতির নামে মিথ্যা গুজব তুলে সারাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর নির্যাতন আর সহ্য করা হবে না। সনাতন বিদ্যার্থী সংসদ, বাংলাদেশ এর সভাপতি শ্রদ্ধেয় কুশল বরণ চক্রবর্তী উপর প্রাণনাশের হুমকির হুমকি দাতাকে গ্রেফতার করে দ্রুত বিচার করা। যে সমস্ত ছাত্রদের গ্রেফতার করা হয়েছে তাদের নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে। সরকার সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা দিতে ব্যার্থ। তিনি সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয়, সংখালঘু কমিশন গঠনের দাবি তোলেন। সরকার যদি আমাদের দাবি না মেনে নেয় তাহলে আমরা সামনে আরো কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো। এর পরে বিক্ষোভ সমাবেশে কালীবাড়ি মন্দিরে সামনে থেকে কালীবাড়ি মোড় দিয়ে আখড়া বাজার মোড় হয়ে শ্রী শ্রী শ্যামসুন্দর লক্ষী নারায়ণ জিউর আখড়ায় গিয়ে বিক্ষোভ সমাবেশের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

Post a comment

0 Comments